দেশে বর্তমানে লবণ মৌসুমের মধ্য সময়। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় প্রত্যাশা অনুসারে উৎপাদন হচ্ছে। তবে দাম উৎপাদন খরচের নিচে নেমে আসায় উদ্বেগে আছেন লবণচাষীরা। কক্সবাজারের বর্তমানে এক মণ লবণ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২৪০ টাকায়। কিন্তু মণপ্রতি উৎপাদন খরচ রয়েছে প্রায় ৩০০ টাকার বেশি।
কক্সবাজারের মহেশখালীর হোয়ানকের লবণচাষী মোহাম্মদ সাকের বলেন, ‘বর্তমানে লবণের যে দাম আছে তাতে জমির দাম, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য খরচ ওঠানো সম্ভব নয়।’
সাকের ছাড়াও কক্সবাজার উপকূলের কুতুবদিয়া, মহেশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, টেকনাফ, কক্সবাজার সদর ও পার্শ্ববর্তী বাঁশখালীর প্রায় ৬৫ হাজার চাষী একই দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। কক্সবাজার লবণচাষী কল্যাণ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, গত বর্ষা মৌসুমে সর্বোচ্চ মণপ্রতি ৫৫০ টাকায় সংরক্ষিত লবণ বিক্রি হয়েছে। অগ্রহায়ণে চলতি উৎপাদন মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ দরপতন শুরু হয়।
কক্সবাজার লবণচাষী কল্যাণ সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাহাব উদ্দীন জানান, লবণ চাষে সব মিলিয়ে কানি প্রতি উৎপাদন খরচ পড়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লবণ উৎপাদন হওয়ার কথা ৩০০-৩৫০ মণ। এতে মণপ্রতি উৎপাদন খরচ ৩৫০ টাকা পড়ার কথা। প্রতি মণ লবণের বর্তমান বিক্রয়মূল্য অনুযায়ী, তিন কানি জমিতে লোকসান হওয়ার কথা ১ লাখ টাকার বেশি। এছাড়া গত বছর লবণ উৎপাদনে চাষীরা ভালো টাকা পাওয়ায় জমির ইজারা মূল্যও বেড়েছে।
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি একটি বড় চালান আমদানির চেষ্টা করেছিল কিছু সিন্ডিকেট। পরবর্তী সময়ে সরকার তা আটকে দেয়। এর পরও লবণের দাম নিম্নমুখীই রয়ে গেছে।’
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প (বিসিক) সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার উপকূলের লবণ উৎপাদনের ৬২ বছরের ইতিহাসে গত মৌসুমে রেকর্ড ২৪ লাখ ৩৮ হাজার টন লবণ উৎপাদন হয়েছিল। এর মধ্যে উৎপাদিত চার লাখ টন লবণ মজুদ ছিল চাষীদের কাছে। চলতি মৌসুমে অপরিশোধিত লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ লাখ ১০ হাজার টন।
বিসিক থেকে আরো জানা যায়, চলতি মৌসুমের এ পর্যন্ত মোট লবণ উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪৬ টন, গত বছরের একই সময় যা ছিল ২ লাখ ৮৪ হাজার ১৪৭ টন।
বিসিক কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ রিদওয়ানুর রশীদ বলেন, ‘দেশে চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টন। কক্সবাজারের মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া, কক্সবাজার সদর, ঈদগাঁও ও টেকনাফ উপজেলা এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার অন্তত ৬৫ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদন করা হয়ে থাকে।
লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপপরিচালক জাফর ইকবাল ভুঁইয়া লবণের দাম কমার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘শুরুর প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হয়েছে। অনেক আবাদি জমি চাষে নামেননি চাষীরা।’